
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের নতুন লাইসেন্স ও নবায়ন করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান হোটেল কর্তৃপক্ষকে ওই টাকা ফেরত দেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে আবাসিক হোটেল কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবালে লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এদিন দিনভর কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে নতুন লাইসেন্স ও নবায়নের কথা বলে টাকা আদায় করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেল কর্তৃপক্ষকে মামলার ভয় দেখানো হয়।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ওই শ্রম পরিদর্শক বিভিন্ন হোটেলে গোপনে মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধান হয়নি।
হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন বলেন, কয়েক দিন আগে ওই শ্রম পরিদর্শক তাঁদের হোটেলে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে হোটেলে এসে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে মামলা তুলে নেওয়া এবং আর হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
হোটেল সি-লেভের মালিক মো. সবুজ বলেন, কয়েক মাস আগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকা নিয়েছিল। শুক্রবার আবার এসে লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। তাঁর কাছে টাকা না থাকায় ৫ হাজার টাকা দেন। বাকি ৩ হাজার টাকা রাতে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল।
হোটেল রিয়াজ আবাসিকের মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান বলেন, ওই কর্মকর্তা নিজের পরিচয় দিয়ে প্রতিটি হোটেলের ভিজিটিং কার্ড ও নাম সংগ্রহ করেন। পরে নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। লাইসেন্স না করলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এভাবে কৌশলে টাকা আদায় করেন তিনি।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, গত দুই বছর ধরে ওই কর্মকর্তা এভাবে গোপনে হোটেলমালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। এ বিষয়ে তাঁকে নিয়ে দুইবার বসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। বরং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন। ওই কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা থেকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দপ্তরে এ, বি ও সি শ্রেণিতে লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সর্বোচ্চ নবায়ন ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, শ্রম পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা নিচ্ছেন, এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।