নেছারাবাদে চার গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে চার গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬


 

নেছারাবাদে চার গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

ভ্যান চালিয়ে কষ্টের উপার্জনে কেনা ছাগল লালন-পালন করে সংসারে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার শহিদুল ইসলাম। সাতটি ছাগলের মধ্যে চারটিই ছিল গর্ভবতী। কিন্তু গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে চারটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন শহিদুল। এ ঘটনায় ওই পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

 

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় ভ্যানচালক শহিদুল কষ্টের উপার্জনে প্রথমে দুটি ছাগল কিনেছিলেন। যত্ন নিয়ে সেগুলো লালন-পালন করে একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটি করেন। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, দুদিন আগে ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের কাছে নিয়ে যান শহিদুল। চিকিৎসক ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে আরেকটি ছাগলও। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেটিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

 

মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন শহিদুল। তাঁর অভিযোগ, মো. সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণেই ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তাঁর প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

ছাগলগুলো হারিয়ে হতাশ শহিদুল বলেন, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন-পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে তাঁর সেই স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেয়েছে।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুলের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন-পালন করছিলেন শহিদুল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গ্রামের কিছু ব্যক্তি গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়ার দাবি জানান।

 

তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সোহেল। তাঁর দাবি, ছাগলগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দেওয়া হয়েছিল। ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয় বলে দাবি করেন তিনি। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

 

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:০৩:৩৫ ● ২৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ