গলাচিপায় পুলিশ থেকে মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় পুলিশ থেকে মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকপালবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশের দাবি, আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দিয়ে শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে গালাগাল করে আসামিকে গ্রেপ্তার না করেই ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তবে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দাবি, তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ওই আসামি মারামারির ঘটনায় জড়িত নন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তারে চরকপালবেড়া বাজারে যায়। এ সময় চরশিবা ইউনিট যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম মাতুব্বর, সাবেক সদস্য খলিল হাওলাদার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটু খানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন বলে অভিযোগ।

 

অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেন এবং উপপরিদর্শক কামাল হোসেনকে গালাগাল করেন। পরে আসামি ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার না করেই পুলিশকে ঘটনাস্থল ছাড়তে হয়।

 

গত সোমবার রাতে স্থানীয় দোকানদার মো. ফিরোজ খানের কাছে ফেরদৌস খান, মকবুল খান ও ফোরকান খান বাকিতে সিগারেট চান। ফিরোজ আগের পাওনা টাকা দাবি করে বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে মকবুল ও ফেরদৌস উত্তেজিত হয়ে ফিরোজকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফিরোজকে রক্ষা করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল খান এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় দুলাল খানের স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে বুধবার গলাচিপা থানায় মামলা করেন।

 

হেনা বেগমের দেবর তুহিন খান বলেন, পুলিশ ফোরকান খানকে গ্রেপ্তার করার পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাতেম মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে মামলার আসামি ফোরকান মারামারিতে যুক্ত ছিল না। তাই এলাকার লোকজন তাকে গ্রেপ্তার না করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছে।’

 

চরকাজল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে চরশিবা বাজারে আসামি ধরতে যাই। তবে আমাদের আসার খবর পেয়ে আসামি ওই এলাকা থেকে চলে যায়।’

 

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৭:৪০ ● ৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ