বাংলা ভাষায় এআই: প্রযুক্তির নতুন যুগে নিজের কণ্ঠ কতটা থাকবে

হোম » প্রযুক্তি » বাংলা ভাষায় এআই: প্রযুক্তির নতুন যুগে নিজের কণ্ঠ কতটা থাকবে
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বাংলা ভাষায় এআই: প্রযুক্তির নতুন যুগে নিজের কণ্ঠ কতটা থাকবে

রিটন খান

 

প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে, যখন মানুষ নিজের ভাষায় তা ব্যবহার করতে ও প্রশ্ন করতে পারে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বাংলাভাষী মানুষের অভিজ্ঞতা এখনো সবসময় এমন নয়। ইংরেজিতে জটিল প্রশ্নের উত্তর কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া গেলেও একই প্রশ্ন বাংলায় করলে অনেক সময় উত্তর অস্পষ্ট, আংশিক বা ভুল হতে পারে। কোথাও বানান ঠিক থাকলেও প্রসঙ্গ বোঝার ঘাটতি থাকে, আবার কোথাও বাংলা বাক্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি শব্দ ঢুকে পড়ে।

 

ফলে প্রযুক্তির সুবিধা অনেকাংশে তাদের হাতেই কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যারা ইংরেজিতে বেশি দক্ষ।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইতোমধ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন, অনুবাদ, সংবাদ, ব্যবসা ও সৃজনশীল কাজের অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনের সময়ে বাংলা পিছিয়ে থাকলে বাংলাভাষী মানুষের বড় একটি অংশ তথ্য ও ডিজিটাল সেবার নতুন জগৎ থেকে দূরে থাকতে পারেন। কারণ ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, সংস্কৃতি, সামাজিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জ্ঞান এবং মানুষের নিজস্ব চিন্তার ধরন।

 

বাংলার জন্য এআই কেন গুরুত্বপূর্ণ

 

বাংলা ভাষায় কথা বলেন কোটি কোটি মানুষ। তবু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় বাংলা দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে কম সম্পদসম্পন্ন ভাষা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর অর্থ বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা কম নয়। বরং এআই প্রশিক্ষণের জন্য মানসম্মত, বৈচিত্র্যময় ও অনুমোদিত বাংলা তথ্যভান্ডার, অডিও, অনুবাদ, অভিধান এবং মূল্যায়নব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

 

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এলএলএম বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো ইংরেজির তুলনায় বাংলায় ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফল দেয়। বিশেষ করে ছোট মডেল ও নির্দিষ্ট ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান বেশি দেখা যায়। ফলে বাংলায় কার্যকর এআই তৈরি করতে শুধু ইংরেজি মডেল অনুবাদ করে ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

 

বাংলা ভাষার নিজস্ব কিছু জটিলতাও রয়েছে। একই শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে। অঞ্চলভেদে উচ্চারণ ও শব্দভান্ডারে পরিবর্তন আসে। কথ্য ভাষা, প্রমিত ভাষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা ও সাহিত্যের ভাষার মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। তার সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির মিশ্র ব্যবহারও দৈনন্দিন জীবনে খুব সাধারণ। কার্যকর বাংলা এআইকে এই বৈচিত্র্য বুঝতে হবে।

 

ভালো বাংলা এআই তৈরি হলে মানুষ নিজের ভাষায় তথ্য খুঁজতে, প্রশ্ন করতে, লিখতে ও বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ বাংলা কণ্ঠপ্রযুক্তির মাধ্যমে আরও স্বাধীনভাবে তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন এমন প্রবীণ মানুষও ডিজিটাল সেবায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক, রোগী ও সরকারি সেবাগ্রহীতারা নিজেদের ভাষায় সহায়তা পেতে পারেন।

 

শিক্ষায় তৈরি হতে পারে নতুন সুযোগ

 

বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী বাংলায় ভগ্নাংশের যোগ শেখার পদ্ধতি জানতে চাইলে এআই তার বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী উদাহরণ দিতে পারে। ইতিহাসের কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করা, কঠিন ইংরেজি পাঠ সহজ বাংলায় বোঝানো কিংবা লেখার খসড়ার যুক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার মতো কাজেও এটি সহায়ক হতে পারে।

 

শিক্ষকেরাও এআই ব্যবহার করে একটি পাঠের বিভিন্ন স্তরের ব্যাখ্যা, অনুশীলনী, প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়নের খসড়া তৈরি করতে পারেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট থাকলে বাংলা এআই অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে।

 

তবে শিক্ষায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীতিগত সতর্কতা জরুরি। এআই যেন শিক্ষার্থীর হয়ে পুরো কাজ করে না দেয়। বরং প্রশ্ন করতে, যুক্তি সাজাতে এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে সহায়তা করা উচিত। শিক্ষককে বাদ দিয়ে এআইনির্ভর শিক্ষা কার্যকর হবে না। শিক্ষকের অভিজ্ঞতা, শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা এবং শ্রেণিকক্ষের সামাজিক সম্পর্ক কোনো মডেল সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারে না।

 

অনুবাদে বাড়তে পারে জ্ঞানের প্রবাহ

 

বাংলা ও বিশ্বের অন্যান্য ভাষার মধ্যে অনুবাদে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি, জলবায়ু, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, আইন ও প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য এখনো সাধারণ বাংলাভাষী মানুষের নাগালের বাইরে। এআই প্রাথমিক অনুবাদ দ্রুত করতে পারে। একইভাবে বাংলা বই, সংবাদ, গবেষণা ও সরকারি নথিও অন্য ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

 

তবে এতে অনুবাদকের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে না। এআই প্রথম খসড়া তৈরি করতে পারলেও অর্থ, প্রসঙ্গ, সাংস্কৃতিক ইঙ্গিত ও ভাষার স্বাভাবিকতা যাচাইয়ের দায়িত্ব মানুষেরই থাকবে। কোনো বাক্য আক্ষরিকভাবে অনুবাদ করলে তার প্রকৃত অর্থ বিকৃত হতে পারে। চিকিৎসা, আইন ও প্রশাসনিক নথির ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।


স্বাস্থ্যসেবায় সম্ভাবনা, সঙ্গে বড় সতর্কতা

 

বাংলা এআই স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। রোগী বাংলায় নিজের উপসর্গ লিখে জানাতে পারেন। হাসপাতালের নির্দেশনা সহজ বাংলায় পাওয়া যেতে পারে। ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি, পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা হাসপাতাল থেকে ফেরার পরের পরিচর্যার নির্দেশনা কণ্ঠের মাধ্যমে শোনানো সম্ভব। চিকিৎসকরাও রোগীর কথ্য বিবরণকে সংক্ষিপ্ত নোটে রূপান্তরের কাজে এআই ব্যবহার করতে পারেন।

 

ভাষাগত বাধা কমলে রোগী ও চিকিৎসকের যোগাযোগও উন্নত হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যসেবায় ভুলের মূল্য অত্যন্ত বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এআই ব্যবহারে গোপনীয়তা, পক্ষপাত, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও মানবিক তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোগীর নিরাপত্তা ও অধিকারকে প্রযুক্তির সুবিধার চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

 

কোনো বাংলা এআই যদি ভুলভাবে কোনো উপসর্গকে গুরুত্বহীন বলে জানায়, তাহলে রোগী চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারেন। তাই এআই রোগ নির্ণয়ের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হতে পারে না। এটি তথ্য বুঝতে এবং চিকিৎসককে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিকল্প হতে পারে না।

 

সরকারি সেবায় কমতে পারে ভাষার জটিলতা

 

সরকারি সেবার তথ্য অনেক সময় এমন ভাষায় লেখা থাকে, যা সাধারণ নাগরিকের কাছে জটিল মনে হয়। কোন ফর্ম কোথায় জমা দিতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে কিংবা আবেদনের পরবর্তী ধাপ কী, তা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয়।

 

বাংলা এআই এসব তথ্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারে। নাগরিক বাংলায় প্রশ্ন করে জন্মনিবন্ধন, কর, পাসপোর্ট, ভূমি, ভাতা বা স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে প্রাথমিক নির্দেশনা পেতে পারেন।

 

এ ক্ষেত্রে কণ্ঠভিত্তিক সেবাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁদের পড়তে অসুবিধা হয়, তাঁরা ফোনে বাংলায় প্রশ্ন করে তথ্য নিতে পারবেন। তবে সরকারি এআইয়ের প্রতিটি উত্তরের উৎস, তথ্যের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল দপ্তরের পরিচয় স্পষ্ট থাকা জরুরি। ভুল তথ্য নাগরিকের সময়, অর্থ ও অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 

ঝুঁকিও কম নয়

 

বাংলা এআইয়ের প্রথম বড় ঝুঁকি ভুল তথ্য। এআই অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন তথ্য দিতে পারে, যার কোনো ভিত্তি নেই। বাংলায় এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ মডেল প্রশিক্ষণের জন্য মানসম্মত তথ্য কম এবং যাচাইয়ের সরঞ্জামও সীমিত।

 

দ্বিতীয় ঝুঁকি পক্ষপাত। প্রশিক্ষণ-তথ্যে যদি শহর, পুরুষ, মধ্যবিত্ত বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ভাষা বেশি থাকে, তাহলে এআই অন্যদের অভিজ্ঞতাকে কম গুরুত্ব দিতে পারে। বাংলাদেশের গ্রাম, ভারতের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল, প্রবাসী বাঙালি এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও বাস্তবতা এক নয়। কোনো মডেল যদি কেবল প্রমিত শহুরে বাংলা বোঝে, তাহলে অনেক মানুষের অভিজ্ঞতা তার কাছে অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।

 

তৃতীয় ঝুঁকি ভাষাগত বৈষম্য। শক্তিশালী মডেলগুলো যদি বাংলায় নিম্নমানের উত্তর দেয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করার দিকে যেতে পারে। এতে প্রযুক্তি ভাষার ব্যবধান কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই প্রশ্ন বাংলা ছাড়াও চাকমা, সাঁওতালি, গারো, মণিপুরি ও অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

 

ইউনেসকোর ভাষা ও এআই-সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোতেও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশসম্পর্কিত ইউনেসকোর এক পর্যবেক্ষণে মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় তথ্যভান্ডার এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কপিরাইট। বই, সংবাদ, অভিধান, গবেষণা ও লেখকদের রচনা অনুমতি ছাড়া এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হলে সৃষ্টিশীল মানুষের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলা প্রকাশনাজগতের লেখক ও প্রকাশকদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁদের বাজার তুলনামূলক ছোট এবং আয়ও সীমিত। ডব্লিউআইপিওর আলোচনাতেও এআই উন্নয়নের সঙ্গে কপিরাইট অবকাঠামো এবং সৃষ্টিশীল মানুষের ন্যায্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

 

বাংলা এআই গড়তে করণীয়

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলা ভাষার বড় ও বৈচিত্র্যময় তথ্যভান্ডার তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। সংবাদ, সাহিত্য, কথ্য ভাষা, উপভাষা, সরকারি নথি, শিক্ষাসামগ্রী ও স্বাস্থ্যতথ্য আলাদা মানদণ্ডে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মানুষের অনুমতি, গোপনীয়তা ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

সরকারকে বাংলা ও অন্যান্য স্থানীয় ভাষার জন্য উন্মুক্ত মান, গবেষণা তহবিল ও তথ্য-অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের আগে নিরপেক্ষ পরীক্ষা, মানবিক তদারকি এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

 

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও মডেলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করতে হবে। কোন তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বাংলা সংস্করণ কতটা নির্ভুল এবং কোন ধরনের প্রশ্নে ভুলের আশঙ্কা বেশি, ব্যবহারকারীকে এসব বিষয়ে জানানো প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, আইন ও সরকারি সেবায় মানবিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

 

লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশকদেরও এ আলোচনায় সক্রিয় হতে হবে। তাঁদের কাজ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হলে অনুমতি, স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিকের কাঠামো থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআইকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে গবেষণা, খসড়া তৈরি ও ভাষা সম্পাদনার সহায়ক হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

নিজের ভাষায় প্রযুক্তির অধিকার

 

বাংলা ভাষায় এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু কত দ্রুত আমরা এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছি, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং নির্ভর করবে আমরা কতটা সচেতনভাবে তাকে গড়ে তুলছি তার ওপর। মানুষের ভাষা, স্মৃতি ও সৃষ্টিশীল শ্রমকে বাদ দিয়ে কোনো ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি দীর্ঘস্থায়ী আস্থা অর্জন করতে পারবে না।

 

ব্যক্তি এআই ব্যবহারের সময় তথ্য যাচাই করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক তদারকি রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও তথ্যভান্ডার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার অধিকারভিত্তিক নীতি গ্রহণ করতে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। লেখক ও অনুবাদকরা নিজেদের কাজের মূল্য এবং অনুমতির প্রশ্ন সামনে রাখতে পারেন।

 

বাংলা ভাষা এআইয়ের যুগে টিকে থাকবে কি না, প্রশ্নটি হয়তো তার চেয়েও বড়। আসল প্রশ্ন হলো, নতুন এই প্রযুক্তির যুগে বাংলা কি নিজের কণ্ঠে কথা বলতে পারবে? সেই উত্তর নির্ভর করছে আজকের গবেষণা, নীতি, বিনিয়োগ এবং আমাদের সম্মিলিত সতর্কতার ওপর।

 

লেখক: সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও এআই আচরণগত গবেষক।

সূত্র: বিজ্ঞান চিন্তা

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৫:২৬ ● ১৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ