
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় পূর্ববিরোধের জেরে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চর চন্দ্রাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কিশোরের নাম শোহান (১৭)। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছত্তার সিকদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় ২২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের ভাষ্য, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই মধ্যে মোবাইল ফোন ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শোহানকে ধরে নিয়ে নদীর পাড়ে একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
শোহানের মা নাজমা বেগম বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে বারেক শিকদারের দুই ছেলে সোহাগ ও রবিউলসহ কয়েকজন মারধর করেছে। তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের পাঁচটি গরু, পুকুরের মাছ, হাঁস-মুরগি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় পথচারী শিপন বলেন, ‘এলাকাবাসীর ডাকাডাকিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে শোহানকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
অভিযোগের বিষয়ে রবিউলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মেজবাহউদ্দিন বলেন, ‘শোহান আমার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় তলার ২২ নম্বর বেডে ভর্তি আছে।’
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’