
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বাসায় ঢুকে নগদ ৮৬ হাজার ১০০ টাকা ও প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিকুর রহমান পান্না মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রোববার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে শহরের সুলতান আলী সড়কের অনাবিল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন আইনজীবী মো. ছিদ্দিকুর রহমান।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে আইনজীবী চেম্বার হয়ে আদালতে চলে যান। তাঁর স্ত্রী ছোট ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান। এ সময় কলেজপড়ুয়া মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। বাইরে যাওয়ার আগে স্ত্রী বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে যান।
পরে চোরেরা বাসার মূল দরজার হ্যাজবোল ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা মেয়ের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে পাশের কক্ষের স্টিলের আলমারি ভাঙে। সেখান থেকে নগদ ৮৬ হাজার ১০০ টাকা ও প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
আইনজীবী মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি তখন আদালতে ছিলাম। আমার স্ত্রী ছেলে নিয়ে স্কুলে ছিলেন এবং মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। আলমারি ভাঙার সময় অনেক শব্দ হওয়ার কথা। আমার ধারণা, চোরেরা মেয়েকে দেখে কোনো ধরনের ঘুমের স্প্রে ব্যবহার করে বাইরে থেকে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছিল। এ কারণে সে কোনো শব্দ পায়নি।’
তিনি বলেন, চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের পরিমাণ প্রায় ২১ ভরি। এর বেশির ভাগই উপহার হিসেবে পাওয়া। এ ছাড়া কিছু স্বর্ণ তাঁর শাশুড়ির এবং কিছু তিনি নিজে কিনেছিলেন। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা করেন।
ঘটনার পর ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই আইনজীবী। তাঁর ভাষ্য, বাসাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। ভবনের নিচতলায় ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ, দুটি আইনজীবীর চেম্বার ও কেয়ারটেকারের কক্ষ রয়েছে। ছয়তলা ভবনটিতে ১২টি পরিবার বসবাস করে। ভবনের সামনেই রয়েছে অসংখ্য দোকান এবং এলাকাটি সারাক্ষণ জনসমাগমপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ভবনের সিঁড়িতে সব সময় মানুষের চলাচল থাকে। সিঁড়ির নিচে কোনো কলাপসিবল গেট নেই এবং ভবনে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়নি। ছাদে গ্রামীণফোনের টাওয়ার থাকায় বিভিন্ন মানুষের দিন-রাত যাতায়াত রয়েছে। সিসি ক্যামেরা থাকলে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হতো।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু শাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। চোর শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। চোরদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’