উত্তাল মেঘনার ডেঞ্জার জোনে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারে যাত্রী পারাপার

হোম » ভোলা » উত্তাল মেঘনার ডেঞ্জার জোনে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারে যাত্রী পারাপার
মঙ্গলবার ● ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনার ডেঞ্জার জোনে মালবাহী ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বোরহানউদ্দিন (ভোলা)

 

মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ডেঞ্জার জোনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মালবাহী ও মাছ ধরার ছোট ট্রলারে যাত্রী পারাপার চলছে। উত্তাল নদীতে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচলকারী এসব নৌযান যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিস্তীর্ণ জলপথ সাগরমুখী হওয়ায় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এখানে প্রবল স্রোত, জোয়ার-ভাটার তীব্রতা ও বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বৈরী আবহাওয়া এবং হঠাৎ নদী উত্তাল হয়ে পড়লে ছোট নৌযানের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতেই প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে এ নৌপথের ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

 

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে সরকারি সি-ট্রাক সার্ভিস ছাড়া মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে ছোট নৌযান চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাট থেকে ছোট ট্রলার ও নৌযান নিয়মিত চলাচল করছে।

 

রবি ও সোমবার সরেজমিনে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমউদ্দিনসহ কয়েকটি নৌঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরার ট্রলারে একসঙ্গে মালামাল ও যাত্রী তোলা হচ্ছে। কোনো কোনো ট্রলারে ধারণক্ষমতার ৫ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদী ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠলেও এসব ট্রলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেঞ্জার জোন ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিষিদ্ধ নৌযানের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান বা নিয়মিত তদারকি না থাকায় নৌযান মালিকরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই যাত্রী পরিবহন করছেন।

 

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে তাদের। তবে সরকারি বিকল্প নৌপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব ছোট ট্রলারে যাতায়াত করছেন তারা। প্রতিবাদ করেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানান কয়েকজন যাত্রী।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকার নৌঘাট ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী পরিবহনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে উত্তাল মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ডেঞ্জার জোনে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে যাত্রী পারাপার অব্যাহত রয়েছে।

 

এ বিষয়ে ভোলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘ডেঞ্জার জোনে অবৈধভাবে চলাচলকারী লঞ্চ ও ট্রলারের কোনো অনুমোদন নেই। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছেন।’

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪২:১১ ● ৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ