
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে রেজিস্ট্রি বায়না চুক্তির মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণা মামলায় জেলহাজত খাটার দাবি করেছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ওই মামলায় কারাভোগের কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষা বিভাগ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি পেশাগতভাবেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কুয়াকাটা ৬০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় তাদের বাবা কাদের সার্ভেয়ারের বন্দোবস্ত সূত্রে পাওয়া ৪০ শতাংশ জমি ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হন তারা। পরে ওই জমি ৬০ লাখ টাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারী মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসের সঙ্গে তার ছোট ভাইবোনেরা রেজিস্ট্রি বায়না চুক্তি করেন।
তার দাবি, বায়না বাবদ ১০ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে বড় ভাই হিসেবে তার ব্যাংক হিসাবে জমা দেন ক্রেতা। পরে তিনি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে স্থানীয় সালিস বৈঠকে নির্ধারিত জমি-সংক্রান্ত মামলার খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ভাইবোনদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।
জাকির হোসেনের অভিযোগ, প্রথম বায়না চুক্তির বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে একই জমি বিক্রির জন্য স্থানীয় মাহাতাব উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও তার ছোট ভাই মো. ইদ্রিস, মো. শাহ আলম এবং বোন মোছা. তাসলিমা, পারুল ও শামসুন্নাহার রেজিস্ট্রি বায়না চুক্তি করেন। পরে প্রথম বায়না চুক্তি এবং অর্থ গ্রহণের বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ তার।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রথম ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসসহ অন্যরা আদালতে প্রতারণার মামলা করেন। বায়নার ১০ লাখ টাকা তার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ায় তাকেও মামলায় আসামি করা হয়। যদিও তিনি দাবি করেন, ওই টাকা উত্তোলনের পর ভাইবোনদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন।
জাকির হোসেন জানান, মামলায় তাকে নয় দিন জেলহাজতে থাকতে হয়েছে। এ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ফলে তিনি বর্তমানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বন্দোবস্ত সূত্রে পাওয়া ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছিল এবং মামলা পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। পরে মামলার খরচের বিষয়টি নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক হয়। সেখানে জমি-সংক্রান্ত মামলার খরচ বহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও তার ভাইবোনেরা তা মানেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাকির হোসেনের ভাষ্য, মামলার খরচের অর্থ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ভাইবোনেরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রির জন্য বায়না চুক্তি করার ঘটনায় সৃষ্ট আইনি জটিলতার খেসারত তাকে দিতে হচ্ছে। অথচ তিনি নিজে জমি বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি তার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাকির হোসেনের ছেলে মো. ইব্রাহিম বলেন, একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে বায়না চুক্তির মাধ্যমে বিক্রির কারণে তার বাবা মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে ছিলেন। এতে তাদের পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার বাবার চাকরিও সংকটের মুখে পড়েছে।
তবে জাকির হোসেনের ছোট ভাই ইদ্রিস মিয়া একই জমি দুই ব্যক্তির কাছে রেজিস্ট্রি বায়না চুক্তির মাধ্যমে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘একই জমি দুইজনের কাছে বায়না করা হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।’
তবে জাকির হোসেনের দাবি করা অর্থ বণ্টনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘আমাদের ভাই জাকির হোসেন কোনো টাকা দেননি।’
সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।