
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে একই নামের অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগের ঘটনায় ২০ দিন কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল হাওলাদার। সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মামলার বাদীপক্ষকে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় উল্লেখ থাকা আসামির সঙ্গে জলিল হাওলাদারের নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নামের মিল থাকায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ পরিচয়ের অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে মহিপুর থানার শিববাড়িয়া এলাকার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ একই গ্রামের জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার জলিলের পরিবারের দাবি, মামলার প্রকৃত আসামি এবং গ্রেপ্তার হওয়া জলিল একই ব্যক্তি নন। দুজনের নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। তাদের দাবি, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণেই নিরপরাধ জলিলকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বলেন, আদালতের পাঠানো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরোয়ানায় ছবি কিংবা মায়ের নাম উল্লেখ না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম উল্লেখ না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর জলিলের জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং সোমবার আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে যাতে এ ধরনের ভুল না হয়, সেজন্য আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।