
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পাথরঘাটা (বরগুনা)
বরগুনার পাথরঘাটায় একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মী পরিচয়ে সঞ্চয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ জন ভিক্ষুকসহ প্রায় সাড়ে ৩০০ মানুষের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুকের দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের জন্য ডেকে এনে তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগীরা তাঁকে পাথরঘাটা থানায় সোপর্দ করেন।
আটক মশিউর রহমান পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা গ্রামের শামসুল হাজির ছেলে।
প্রতারণার শিকার সেতারা বেগম, তাজেনু ও ফাতিমা বেগম জানান, তারা ভিক্ষাবৃত্তি করেন। ২০০৮ সাল থেকে মশিউরের কথায় তারা সঞ্চয়ের নামে টাকা জমা দিতে শুরু করেন। আট বছরে প্রত্যেকে ৩৫ হাজার টাকা করে জমা দেন। মশিউর তাদের সঞ্চিত টাকার দ্বিগুণ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মশিউর একইভাবে নিজলাঠিমারা ও হাতিমপুর গ্রামের প্রায় সাড়ে ৩০০ মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করে বিদেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর কয়েক বছর আগে দেশে ফিরলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য থাকায় ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা আদায় করতে পারেননি বলে দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মশিউর আবার বিদেশে চলে যান। সম্প্রতি তিনি বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরলে গ্রামবাসী তাকে ধরে থানায় সোপর্দ করে। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে সালিশ বৈঠকের কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সোমবারের সালিশ বৈঠকে মশিউর অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিলে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী নারীরা তাকে আটক করে আবারও থানায় সোপর্দ করেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম বলেন, মশিউরের বিরুদ্ধে তার কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত পেতে তিনি তাদের সহযোগিতা করছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলিম বলেন, মশিউরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অনুরোধে বিষয়টি সমাধানের জন্য সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সালিশে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।