
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
বৃষ্টির দিনে অনেক শিশুকেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ঘুমকাতুরে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হতে পারে। তবে বৃষ্টি সরাসরি শিশুর ঘুম বাড়িয়ে দেয়- এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার দিনে কম সূর্যালোক, বৃষ্টির একটানা শব্দ, তুলনামূলক শীতল পরিবেশ এবং ঘরের শান্ত আবহ শিশুর ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কম আলো
মেঘলা ও বৃষ্টির দিনে প্রাকৃতিক আলো কমে যায়। আলো-অন্ধকারের পরিবর্তন শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্ধকার পরিবেশ ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত মেলাটোনিন হরমোনের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ফলে দিনের পরিবেশ তুলনামূলক অন্ধকার হলে কিছু শিশুর তন্দ্রাভাব বাড়তে পারে।
বৃষ্টির একটানা শব্দ
বৃষ্টির ছন্দময় শব্দ অনেকটা হোয়াইট নয়েজের মতো কাজ করতে পারে। এ ধরনের একটানা শব্দ বাইরের হঠাৎ শব্দ ঢেকে দিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করে, যা কিছু শিশুর সহজে ঘুমিয়ে পড়তে সহায়ক হতে পারে।
আরামদায়ক তাপমাত্রা
বৃষ্টির সময় সাধারণত তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। আরামদায়ক ও স্থিতিশীল পরিবেশ শিশুর ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা স্যাঁতসেঁতে রাখা উচিত নয়। শিশুর ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
শান্ত পরিবেশের প্রভাব
বৃষ্টির দিনে বাইরে খেলাধুলা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় ঘরের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত থাকে। চারপাশে কোলাহল কম থাকায় সংবেদনশীল শিশুরা সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারে।
বায়ুচাপের পরিবর্তন
বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পরিবর্তন আসে। এটি মানুষের মেজাজ বা শারীরিক অনুভূতিতে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হলেও শিশুদের বেশি ঘুমানোর সঙ্গে বায়ুচাপের সরাসরি সম্পর্ক এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শিশুর ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন
বৃষ্টির দিনে দিনের ঘুম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দীর্ঘ হলে রাতের ঘুমের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে। তাই আবহাওয়া পরিবর্তন হলেও শিশুর খাবার, খেলা ও ঘুমের নিয়মিত রুটিন যতটা সম্ভব বজায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।