দশমিনায় আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » দশমিনায় আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ
রবিবার ● ৩০ আগস্ট ২০২৬


 

দশমিনায় আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

 

শনিবার ( ২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তার দেড় বছরের শিশুপুত্রের নাম মুসা।

 

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে বলেন। শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

 

একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার শিশুপুত্র মুসাকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন। শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন পরিবর্তন করে নতুন আইফোন কিনেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে সাভারের বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন মারুফ। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফও ঢাকায় চলে যান এবং গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফেরেন।

 

তিনি বলেন, শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

 

অন্যদিকে, শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে জানান, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৮:১১ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ