সাগরকন্যা বিনোদন ডেস্ক
১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘কয়লা’ ছিল রাকেশ রোশনের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী সিনেমা। অ্যাকশনধর্মী এই ছবিতে শাহরুখ অভিনয় করেন এক বোবা তরুণের চরিত্রে। মুক্তির আগে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি ছবিটি। আর সেই ব্যর্থতার ধাক্কায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েন রাকেশ রোশন।
বহু বছর পর এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরেন রাকেশ রোশনের ছেলে অভিনেতা হৃতিক রোশন। জি ইটিসি বলিউডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানান, কয়লা’র ব্যর্থতার পর তাঁদের পরিবারে একের পর এক সংকট নেমে এসেছিল। তাঁর বাবা নিজের উপার্জনের সবটুকুই হারিয়ে ফেলেছিলেন।
হৃতিক বলেন, একটা সময় ছিল, সম্ভবত “কয়লা”র পর। আমাদের পরিবারে নানা সমস্যা শুরু হয়েছিল। বাবা তাঁর উপার্জনের সবটুকুই হারিয়ে ফেলেছিলেন। চারদিক থেকে সমস্যা এসে ঘিরে ধরেছিল।
সেই সময়ের একটি ঘটনা আজও হৃতিকের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, এক সকালে আমি বাবাকে বলতে শুনেছিলাম, আমি সব হারিয়ে ফেলেছি। জীবনে প্রথমবার তাঁর চোখে পানি দেখেছিলাম। সেই দৃশ্য আমি কখনো ভুলতে পারিনি।
অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রাকেশ রোশন ‘খুদগর্জ’, ‘করণ অর্জুন’, ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’, ‘কোই… মিল গয়া’ ও ‘কৃষ’-এর মতো সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে হৃতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কয়লা’র ব্যর্থতা ছিল তাঁর বাবার জীবনের অন্যতম কঠিন সময়।
পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান রাকেশ রোশন। ২০০০ সালে ছেলে হৃতিক রোশনকে নায়ক করে নির্মাণ করেন ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’। ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং হৃতিক রাতারাতি বলিউডের নতুন তারকায় পরিণত হন। এরপর ‘কোই… মিল গয়া’ ও ‘কৃষ’ সিরিজের সাফল্যের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন রাকেশ রোশন।
হৃতিকের মতে, তাঁর বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-ব্যর্থতা যত বড়ই হোক, সেখান থেকেই আবার নতুন করে শুরু করা সম্ভব।