
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
তরুণ রাজনৈতিক নেতা ও বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনকে পথে পথে গণসংবর্ধনা দিয়েছেন আমতলী-তালতলীর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সোমবার (৩ আগস্ট) আমতলী ও তালতলী উপজেলার অর্ধশতাধিক স্থানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯৭ সালে তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর ঢাকায় চলে যান। ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব দেন। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশনা পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে জানান তার অনুসারীরা।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ওই সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে আমতলী-তালতলী ও বরগুনার উন্নয়নে কাজ শুরু করেন বলে জানান ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। তার অনুসারীদের দাবি, তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তরুণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সোমবার তালতলী উপজেলার একটি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এলাকায় আসেন। তার আগমনকে ঘিরে আমতলী-তালতলীর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। পরে বিভিন্ন স্থানে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরগুনা জেলার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার নির্দেশনায় বরগুনার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করবো। আমতলী-তালতলী ও বরগুনা আমার স্বপ্নের এলাকা। এ অঞ্চলকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমতলী-তালতলী ও বরগুনার মানুষের উন্নয়নে আমি জীবন দিয়ে কাজ করে যাব।’