সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ খানাখন্দে বিপর্যস্ত আমতলী-তালতলী সড়ক, দ্রুত সংস্কারের দাবি

হোম » বরগুনা » সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ খানাখন্দে বিপর্যস্ত আমতলী-তালতলী সড়ক, দ্রুত সংস্কারের দাবি
সোমবার ● ৩ আগস্ট ২০২৬


 

সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ: খানাখন্দে বিপর্যস্ত আমতলী-তালতলী সড়ক, দ্রুত সংস্কারের দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ ভয়াবহভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

 

জানা গেছে, আমতলী-তালতলী-ফকিরহাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার উপকূলীয় আঞ্চলিক সড়কের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের অক্টোবরে বার্ষিক জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সেতু পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজটি পান বরগুনার ঠিকাদার মো. সগির হোসেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখা হয়। পরে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তৎকালীন আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে প্রায় ১০ মিটার পরপর বড় গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় গর্তে যানবাহন আটকে গিয়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। গত দুই বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করছেন কয়েক লাখ মানুষ।

 

সোমবার (০৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ অংশই খানাখন্দে ভরা। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

মোটরসাইকেল চালক মো. শাহ আলম তালুকদার ও রুবেল মিয়া বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরে জীবন বাজি রেখে চলাচল করছি। এ সড়ক নয়, যেন মিনি পুকুর।’

 

তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এমন বেহাল সড়ক বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’

 

আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, কল্পনা আক্তার, আবু ছালেহ ও শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘এ সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সংস্কার করা হোক।’

 

তারিকাটা গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করায় অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে। নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

 

তবে ঠিকাদার মো. সগির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আমার কোনো দায় নেই।’

 

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, বিষয়টি সত্য। ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণের ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

 

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণের সময় আমি বরগুনায় দায়িত্বে ছিলাম না। তাই নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে চলতি অর্থবছরেই সড়কটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৭:৪৪ ● ১৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ