
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা
বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই সঙ্গে ভোলার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা সফরে যান বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান। বরিশাল থেকে স্পিডবোটে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এবং বিজেপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
খেয়াঘাট থেকে শহরের নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ অবস্থান নিয়ে তথ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত পথসভায় তিনি বক্তব্য দেন।
পথসভায় বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সবাই কাজ করছেন এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রকল্পের ডিপিপি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এ নিয়ে কাজ করছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিন্তু কেউ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ায় বা ভোলার মানুষকে বিভক্ত না করে। সরকার একই সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়েও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছে।’
ভোলার উন্নয়নে সরকারের আরও কিছু পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলায় মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং শহরের সড়ক উন্নয়নে বড় অঙ্কের প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে আন্দালিভ রহমান বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি- সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চান তিনি। জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দলের জন্য তাঁর দরজা খোলা থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।
কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তথ্যমন্ত্রী। সরকারি উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও তাঁকে জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আন্দালিভ রহমান বলেন, ২০০৮ সালে ভোলার মানুষ তাঁকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে ভোলার মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য তিনি নিজেকে ভোলাবাসীর কাছে ঋণী বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ভোলায় কোনো এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই সারা জীবন থাকতে চাই।’