৮ বছর ধরে মামলা, ধর্ষণের বিচার কবে- বাদীর প্রশ্ন

হোম » আইন-আদালত » ৮ বছর ধরে মামলা, ধর্ষণের বিচার কবে- বাদীর প্রশ্ন
বুধবার ● ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

‘৮ বছর ধরে মামলা চালাচ্ছি, কত বছরে পাব ধর্ষণের বিচার?’- আদালত প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একটি ধর্ষণ মামলার বাদী জাহানারা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চললেও এখনো যুক্তিতর্ক শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

 

জাহানারা বেগম বলেন, ‘টাকার কাছে কি সবাই বিক্রি হয়ে যাবে? আমি গরিব মানুষ, রিকশা চালাই। তাই বলে কি আমরা বিচার পাব না? আমার মেয়ের ইজ্জত গেছে। এখনো কি তার কোনো স্বীকৃতি মিলবে না?’

 

বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রায় আট বছর ধরে মামলাটি বিচারাধীন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে বারবার যুক্তিতর্ক পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারটির মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

 

মামলার বাদী জাহানারা বেগম ভুক্তভোগী নারীর মা। তার স্বামী ও ভুক্তভোগীর বাবা সোরাব গাজী পেশায় রিকশাচালক। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, থানার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ধর্ষণের অভিযোগে বরগুনার বাসিন্দা মো. সগীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

মামলার আসামি মো. সগীর হাওলাদার, পিতা- সেলিম হাওলাদার। তার বাড়ি বরগুনায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় ভাঙারির ব্যবসা করেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

 

বাদীপক্ষ জানায়, অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য রাখা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।

 

একপর্যায়ে আদালত প্রাঙ্গণে বাদী জাহানারা বেগম, ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা চিৎকার-চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একজন বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্য, এর আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সময়ে মামলাটির কী অগ্রগতি হয়েছে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

 

এদিকে ভুক্তভোগীর বাবা সোরাব গাজী বলেন, ‘মামলাটি করে আজ পথে বসে গেছি। রিকশা চালিয়ে জীবন-সংসার চালাতে হয়। সরকারি আবাসন প্রকল্পে থাকি। আসামির ভয়ে ঢাকা ছেড়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর আবাসন প্রকল্পে বসবাস করছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে মামলাটি পটুয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার উদ্যোগ নেব।’

 

ভুক্তভোগীর ভাই রাকিব গাজী বলেন, ‘আমরা আদালতের মাধ্যমে মামলার আসামি সগীর হাওলাদারের সঠিক বিচার চাই।’

 

ভুক্তভোগীর চাচি হনুপা বেগম বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে সগীর হাওলাদারের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

 

ভুক্তভোগীর ভাইয়ের স্ত্রী নাসিমা বেগমও মামলার আসামির বিচার দাবি করেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোরাব গাজী গরিব মানুষ। মামলা করার পর তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। রিকশা চালিয়ে সংসার চালান এবং সরকারি আবাসনে থাকেন। মামলার সঠিক বিচার হলে পরিবারটি সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।’

 

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।

 

আইনগত সতর্কতা: ভুক্তভোগীর নাম, ছবি, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরিচয় শনাক্ত হতে পারে এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। আসামিকেও ‘ধর্ষক’ হিসেবে উল্লেখ না করে ‘ধর্ষণ মামলার আসামি’ বলা হয়েছে, কারণ মামলাটি এখনো বিচারাধীন।

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:১০ ● ৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ