শিকারির ফাঁদে আহত সেই বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে, ছয় মাস পর অবমুক্ত

হোম » খুলনা » শিকারির ফাঁদে আহত সেই বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে, ছয় মাস পর অবমুক্ত
রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬


শিকারির ফাঁদে আহত সেই বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে, ছয় মাস পর অবমুক্ত

 

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

 

শিকারির পাতা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়ার পর টানা ছয় মাসের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে অবশেষে সুন্দরবনে ফিরেছে সেই রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করেন।

 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে প্রায় ৯ ফুট দীর্ঘ ও ৯০ কেজি ওজনের বাঘিনীটি আটকা পড়ে। ফাঁদ থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে আবার সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

অবমুক্তির সময় প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ বনের প্রাণী, তাই তার স্থান বনেই। বন বিভাগের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা ছয় মাস ধরে নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে বাঘিনীটিকে সুস্থ করে তুলেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, সে এখন নিজেই শিকার করে স্বাভাবিকভাবে বনে টিকে থাকতে সক্ষম। তাই তাকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বন বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া এই বাঘিনীকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

 

অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল এবং বাঘটির চিকিৎসায় গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের প্রধান ভেটেরিনারি সার্জন ড. আনিসুর রহমানসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বন বিভাগ জানিয়েছে, অবমুক্তির পর বাঘিনীটির চলাচল, আচরণ ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী এক বছর তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বন বিভাগের চারটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৩:২৮ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ