বরগুনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
শনিবার ● ১১ জুলাই ২০২৬


বরগুনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার ৪৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা ও তদারকির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে বহু বিদ্যালয়ে এখনো ওয়াশ ব্লক নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে জেলার হাজারো শিক্ষার্থী নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও পরিচ্ছন্নতা সংকটে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় বরগুনার ৪৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কয়েক দফা সময় বাড়ায়। এরপরও জেলার বহু বিদ্যালয়ে কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

বেতাগী উপজেলার ছোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের সঙ্গে একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসিসি অ্যান্ড হান্নান জেভি। ভবনের কাজ শেষ হলেও তিন বছরেও ওয়াশ ব্লকের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ সময়ে তিনজন উপ-ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত কেউই কাজ শেষ করতে পারেননি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ছালেহ বলেন, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে ব্যবহারযোগ্য টয়লেট না থাকায় প্রয়োজন হলে পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

একই উপজেলার ছোপখালী ধনমানিক চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ছোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লক ব্যবহার করছে।

এছাড়া সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার অনেক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেখানে কাজ শেষ হয়েছে, সেখানেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে অল্প সময়েই ওয়াশ ব্লকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আবার বিদ্যালয়ে দপ্তরী না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে অধিকাংশ ওয়াশ ব্লক নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিরাপদ স্যানিটেশনের বিষয়টি আমরা একাধিকবার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল কবির বলেন, ঠিকাদারদের আবেদনের ভিত্তিতে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল। গত জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করতে পারেনি। বর্তমানে ঠিকাদাররা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগও করছে না।

দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অসমাপ্ত ওয়াশ ব্লকের কাজ শেষ করে মানসম্মত ও শিশুবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৩:১৮ ● ১৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ