জিয়ানগরে ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করায় চেয়ারম্যানের সিএকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

হোম » লিড নিউজ » জিয়ানগরে ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করায় চেয়ারম্যানের সিএকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
শুক্রবার ● ১৯ জুন ২০২৬


 

জিয়ানগরে ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করায় চেয়ারম্যানের সিএকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) আওতাধীন তিনটি প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএ) ইয়াসিন আরাফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরান আহমেদের পরিবর্তে টেন্ডার-সংক্রান্ত কাজ পরিচালনার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান এ নোটিশ দেন।

 

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, ইয়াসিন আরাফাত নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে বিভ্রান্ত করে টেন্ডার-সংক্রান্ত পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করেন এবং তা ব্যবহার করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার জিয়ানগর উপজেলার ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় ঠিকাদার ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে টেন্ডার বাণিজ্য ও অনিয়মের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে লিখিত আবেদনও জমা দেন।

 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরান আহমেদ, মাঠ সহকারী প্রকৌশলী লিখন এবং সিএ ইয়াসিন আরাফাতকে তলব করেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর আরাফাতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিয়ানগর উপজেলার এডিবি প্রকল্পের কাজ নিজের উপজেলা নাজিরপুরের কয়েকজন ঠিকাদারকে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ইয়াসিন আরাফাত। বিষয়টি স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, এ প্রকল্পের টেন্ডারে পিরোজপুর জেলার সব যোগ্য লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোনো ঠিকাদারের লাইসেন্স অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তারা দাবি করেন, সিএ ইয়াসিন আরাফাত এলজিইডির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

তাদের ভাষ্য, এলজিইডির গোপন পাসওয়ার্ড কোনোভাবেই একজন সিএর কাছে থাকার কথা নয়। কীভাবে এবং কোন বৈধতায় তিনি এ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।

 

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের মালিক এইচ এম ফারুক হোসাইন বলেন, এডিবির প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল জিয়ানগর উপজেলার লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের মধ্যে এসডিআরের মাধ্যমে লটারির ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করা। কিন্তু আরাফাত জালিয়াতির মাধ্যমে জিয়ানগরের কোনো লাইসেন্স চূড়ান্ত লটারিতে না রেখে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলী স্যারকে কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সামান্য সহযোগিতা করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরান আহমেদ খান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেন্ডারের কলটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে অল্প সময়ে কাজ করতে গিয়ে এ ধরনের কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে।

 

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে যে টেন্ডারটি আহ্বান করা হয়েছিল, সেখানে স্থানীয় কোনো ঠিকাদার নোটিফিকেশন পাননি। বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি। জিয়ানগর উপজেলার সব যোগ্য ঠিকাদারের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা।

 

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে সাবেক নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সিএ এবং বর্তমানে জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান ও সম্পন্ন করা হবে।

 

উল্লেখ্য, ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল নাজিরপুরে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে সেখান থেকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৯:৪৭ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ