
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
১৫০ নম্বর রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন পাঁচটি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গাছগুলো বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রোপণ করা হয়েছিল-এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম সীমানা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন আগে রোপণ করা পাঁচটি মেহগনি গাছ গত ১৩ জুন বিক্রি করেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য বিরেন্দ্রনাথ রায়। পরে কাটা গাছের অংশ বিদ্যালয় মাঠ ও নাজিরপুর-বয়াসিঙ্গা সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, গাছগুলো বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে বা সংলগ্ন এলাকায় থাকায় এতদিন এগুলো বিদ্যালয়ের সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত ছিল। তাই গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না-সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাতা সদস্য বিরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এটি তার নিজস্ব জমি। তিনি বলেন, গাছগুলোও তারই লাগানো। বিদ্যালয় মাঠে পাতা পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অসুবিধা হওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগেই গাছ সরিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মণ্ডল বলেন, ওই স্থানটি তাদের বাড়ির সংলগ্ন আলাদা নকশাভুক্ত রাস্তার পাশেই অবস্থিত এবং বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে। গাছগুলোও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই রোপণ করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গাছগুলোর অবস্থান ও মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানা সংলগ্ন সম্পদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে তারা মত দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি তিনি সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএইচএম/এমআর