
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে বাড়ির উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রবিন হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই ছেলে আহত হয়েছেন। আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের উত্তর কালাইয়া গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন হাওলাদার ওই এলাকার বাসিন্দা। আহতরা হলেন তার স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার (৪৫), ছেলে রনি হাওলাদার (২২) ও হৃদয় হাওলাদার (২৪)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে বাড়ির উঠানে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একই বাড়ির সাতটি পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে একটি প্লাস্টিকের পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। পাইপ কেনা ও স্থাপনের ব্যয় সাতটি পরিবার যৌথভাবে বহন করার কথা থাকলেও এতে আপত্তি জানায় একই বাড়ির আনন্দ বেপারীর পরিবার।
এ নিয়ে বুধবার সকালে রবিন হাওলাদার ও আনন্দ বেপারীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে রতন বেপারীর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রবিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
রবিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকেও মারধর করে। এতে চারজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন রতন বেপারী (৩২), প্রদীপ বেপারী (২৭), আনন্দ বেপারী (৬০) ও সুশীলা বেপারী (৫০)।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।