কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬


 

কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা, গোপন তথ্য ফাঁস ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উত্তরা ব্যাংক পিএলসির খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

কলাপাড়া পৌরসভার ঠিকাদার গোলাম রাব্বি বাদী হয়ে গত ৭ জুন কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় বাউফল উপজেলার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর সিআর-৭১৫। এতে দণ্ডবিধির ৩৮৪, ৪০৬, ৪২০, ৪৮৯(ক), ৫০৬(খ) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গোলাম রাব্বি উত্তরা ব্যাংকের খেপুপাড়া শাখার নিয়মিত গ্রাহক। তাঁর হিসাবে ঠিকাদারি কাজের বিল বাবদ ৬ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা জমা হওয়ার পর তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে যান। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় আসামি ও তাঁর সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার একটি জরুরি চেকে তাঁর স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে গোলাম রাব্বি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব থেকে কিছু টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করে ব্যালেন্স কমিয়ে দেন। ফলে ওই দিন চেকটি কার্যকর হয়নি। পরে শাখা ব্যবস্থাপক গোপনে তাঁর ব্যাংক হিসাবের তথ্য হাবিবুর রহমানকে সরবরাহ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে হাবিবুর রহমান গোলাম রাব্বির হিসাবে ৩২ হাজার টাকা জমা দিয়ে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা পূরণ করেন। এরপর তাঁর অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই কাউন্টার চেকের মাধ্যমে গত ২ জুলাই ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

 

বাদী গোলাম রাব্বি বলেন, ‘উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক লুৎফুর রহমানসহ আরও একজন আমার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া জরুরি চেকটির মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা পর শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তিন দিন পর ওই চেক ব্যবহার করে আমার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। পরে ১২ জুলাই আপস-মীমাংসার কথা বলে আমাকে ব্যাংকে ডাকা হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তরা ব্যাংক পিএলসির খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাদের ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহকের তথ্য অন্য কাউকে দেওয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তথ্য চেয়েছিলেন, আমরা তার জবাব দিয়েছি।’

 

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ আরও একজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১:১১:৪৬ ● ৩১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ