
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘিতে কুমিরের হামলায় শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মৃত্যুর ঘটনায় জননিরাপত্তার স্বার্থে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
জরুরি সভায় বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, মাজারের খাদেম, সাংবাদিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পর জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটিকে দীঘি থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটি স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। তারা কুমিরটির অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবেন। পরে কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন রাত ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশু কুমিরের হামলার শিকার হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং দীঘিতে থাকা কুমিরটির বিষয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি ওঠে।