
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ উঠেছে। এবার জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্যসংবলিত ভিডিও ক্লিপ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগে আলোচনায় আসেন ফিরোজ মুন্সি। ওই ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তবে সে সময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে সালিশের নামে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামের কৃষক কালাম ফকিরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন ফিরোজ মুন্সিসহ কয়েকজন। এ জন্য খরচ বাবদ ৩২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে কালাম ফকিরের ছেলে সেকান্তার ফকির ও ফিরোজ মুন্সির কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে সেকান্তার ৩২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললেও ফিরোজ মুন্সি ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বাকি দুই হাজার টাকা শুকুর নামের এক ব্যক্তি নিয়েছেন বলেও কথোপকথনে উঠে আসে।
অডিওতে সেকান্তার টাকা ফেরত চাইলে ফিরোজ মুন্সিকে বলতে শোনা যায়, ‘দুলাল মুন্সি, ইউসুফ, শুকুরকে ফোন দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকলে তোর একটা টাকাও যাবে না। আমাকে বিকাশে যে ছয় হাজার পাঠিয়েছো, সেটা আপাতত নে। আর ভেঙে না নিলে পাঁচটা দিন সময় দে।’
একপর্যায়ে সেকান্তার বলেন, জমির বিষয়টি নিয়ে তাদের আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং তিনি দ্রুত টাকা ফেরতের দাবি জানান। জবাবে ফিরোজ মুন্সি আরও পাঁচ দিন সময় চান। কথোপকথনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার অনুরোধও করতে শোনা যায় তাকে।
ভুক্তভোগী কৃষক কালাম ফকির বলেন, ‘আমার কবলা সম্পত্তি বুঝে না পাওয়ায় তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আমাদের এসএ রেকর্ড, বিএস রেকর্ড ও দলিল সবই আমাদের নামে রয়েছে। তারা বলেছিল দাঁড়িয়ে থেকে জমির ফয়সালা করে দেবে। ফিরোজ মুন্সি, দুলাল মুন্সি, শুকুর ও ইউসুফ মাতুব্বর- এই চারজন বিষয়টি দেখবে বলে জানায়। পরে খরচ বাবদ ৩২ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু জমির ফয়সালাও করে দেয়নি, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।’
কালাম ফকিরের ছেলে সেকান্তার ফকির বলেন, ‘ফিরোজ মুন্সি ও ইউসুফ মাতুব্বর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারা বলেছিল, ভেকু দিয়ে মাটি কেটে আমাদের জমিতে বসিয়ে দেবে। ৩২ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের গাড়ি ভাড়া, গাড়িতে তেল, নাস্তা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আমাদের আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগে ফিরোজ মুন্সির সঙ্গে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে দুলাল মুন্সি বিএনপি এবং ইউসুফ মাতুব্বর ও শুকুর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি বলেন, ‘আমি একটা অনুষ্ঠানে আছি। সাক্ষাতে এসে বিষয়টি বলব। এসে ফোন দেব।’
অপর অভিযুক্ত রাঙ্গাবালী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মাতুব্বর বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এখন শুনতেছি ফিরোজ আর শুকুরকে নাকি টাকা দিছে।’
ফিরোজ মুন্সির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল কখনোই বহন করবে না। ব্যক্তি তার নিজ কর্মের জন্য নিজেই দায়ী। দলের স্বার্থ, আদর্শ ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সবার উচিত ব্যক্তির ভুলকে দলের সঙ্গে না জড়ানো।’