হেডফোন ব্যবহারে সময় ‘৬০-৬০’ নিয়ম মানছেন তো

হোম » প্রযুক্তি » হেডফোন ব্যবহারে সময় ‘৬০-৬০’ নিয়ম মানছেন তো
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬


দীর্ঘ সময় একটানা হেডফোন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরিসাগরকন্যা ডেস্ক

স্মার্টফোনের সঙ্গে হেডফোন বা ওয়্যারলেস ইয়ারবাডের ব্যবহার এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। যাতায়াতের সময় গান শোনা, ভিডিও দেখা, অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কিংবা ফোনে কথা বলা-সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করলে তা ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসক ও শ্রবণবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কানের সুরক্ষায় মেনে চলতে হবে ‘৬০-৬০’ নিয়ম। অর্থাৎ, হেডফোনের সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি নয় এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি অডিও শোনা যাবে না। এরপর কিছু সময় বিরতি নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস কানের ভেতরের সংবেদনশীল কোষকে অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শব্দের সংস্পর্শে থাকলে শব্দজনিত শ্রবণক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়। মানুষের কানের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কোষ শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। অতিরিক্ত জোরে শব্দের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। ফলে একবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে সেটি স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮০ ডেসিবেলের নিচের শব্দ তুলনামূলক নিরাপদ। সাধারণ কথোপকথনের শব্দ প্রায় ৬০ ডেসিবেল, কলিং বেলের আওয়াজ প্রায় ৮০ ডেসিবেল, ব্যস্ত সড়কে শব্দের মাত্রা প্রায় ৮৫ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর চিৎকার বা বিমান উড্ডয়নের মতো পরিস্থিতিতে শব্দের মাত্রা আরও অনেক বেশি হয়ে যায়।

বর্তমানে অনেক স্মার্টফোন ও হেডফোনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ১০০ থেকে ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভলিউম ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখলে তা তুলনামূলক নিরাপদ পর্যায়ে থাকে। তবে ভলিউম যত কম রাখা যায়, কানের জন্য তত ভালো।

নয়েজ-ক্যানসেলিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হেডফোন ব্যবহারেরও বাড়তি সুবিধা রয়েছে। এতে বাইরের শব্দ কম শোনা যায়, ফলে কম ভলিউমেও পরিষ্কারভাবে গান বা অডিও শোনা সম্ভব হয় এবং অযথা ভলিউম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।

আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড দুই ধরনের স্মার্টফোনেই এখন শ্রবণসুরক্ষার বিভিন্ন ফিচার যুক্ত রয়েছে, যা অতিরিক্ত শব্দ শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করতে পারে।

প্রযুক্তির ব্যবহার হোক স্মার্ট, আর নিজের শ্রবণশক্তির সুরক্ষাও থাকুক নিশ্চিত।

বাংলাদেশ সময়: ১০:০০:১৮ ● ১৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ