আউটসোর্সিং কর্মীদের বিক্ষোভ: বাগেরহাট হাসপাতালে উত্তেজনা, তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে তালা

হোম » খুলনা » আউটসোর্সিং কর্মীদের বিক্ষোভ: বাগেরহাট হাসপাতালে উত্তেজনা, তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে তালা
বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬


বাগেরহাট হাসপাতালে উত্তেজনা, তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে তালা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে বাদ দিয়ে নতুন করে ৯৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিচ্যুত কর্মীরা। এ সময় তারা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে আন্দোলনরত কর্মীরা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী ৬৬ জন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবর্তে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বচ্ছ ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

কর্মীদের ভাষ্য, বছরের পর বছর হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর কোনো পূর্ব নোটিশ বা যথাযথ কারণ ছাড়াই তাদের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এতে তারা ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। চাকরি বহাল রাখা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

আন্দোলনরত কর্মীরা বলেন, এই চাকরিই তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। চাকরি হারানোর ফলে ৬৬টি পরিবার সংকটে পড়েছে। অনেকের সন্তান স্কুল-কলেজে অধ্যয়ন করছে। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চালানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

কর্মচারী রবিউল হাসান আকাশ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানিয়েছে, ৩০ জুন আমাদের নিয়োগ বাতিল হয়ে গেছে। অথচ আমরা যখন কাজে যোগদান করি, তখন দেওয়া নিয়োগপত্রে চাকরির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। এছাড়া আমাদের ছয় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

আরেক কর্মচারী কার্জন শেখ বলেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানার পর আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। চাকরি হারালে ৬৬ কর্মচারীর পরিবার পথে বসবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে। আদালতের রায়ের বাইরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এমই/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৭:১০ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ