
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জরুরি সতর্কতামূলক ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সংক্রমণ বাড়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, হামের সাধারণ উপসর্গ তীব্র জ্বর ও সারা শরীরে লালচে র্যাশ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হাম ভাইরাসজনিত রোগ হলেও এর কার্যকর টিকা রয়েছে- তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে হামের সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের উপজেলায় পর্যাপ্ত টিকার মজুদ রয়েছে। অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর ও র্যাশের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি।’
স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিশু এখনো হামের টিকা (এমআর) নেয়নি, বিশেষ করে টিকা নেওয়ার বয়স হয়েছে- তাদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। হামের টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়- প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়সে।
এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখা, প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার এবং সংক্রমণ এড়াতে সাময়িকভাবে স্কুল থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলিজা, ডিম, দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, পাকা পেঁপে ও আম খাওয়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, উপজেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে- তাই কোনো ধরনের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জু (এমপি) নেছারাবাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি টিকার মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।