
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৪ নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের হরিহরকাঠী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি শতবর্ষী চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চরমে। রাস্তা নির্মাণ ও ব্যবহারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ২০ থেকে ২২টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ফারুক হোসেনের পরিবার সেখানে পাকা টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তায় টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু হলে একই এলাকার সোহাগসহ এলাকাবাসী বাধা দেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে উপজেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দফা তদন্ত করা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রায় দুই দশকেরও বেশি পরিবারের।
এদিকে বিরোধের এক পর্যায়ে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে ৪ নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিন বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। একটি পক্ষ ভুল বুঝে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো চাঁদা গ্রহণের প্রমাণ নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহাদাত হোসেন বলেন, রাস্তাটি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চললেও একটি পক্ষ সহযোগিতা করছে না। চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে ফারুক হোসেন বলেন, রাস্তার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। আমাদের নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কাউকে হয়রানি করতে চাই না, তবে আমাদের জমির অধিকার রক্ষা করতে চাই।
হাতঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের তহসিলদার মোঃ বাদল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় এটি কোনো রেকর্ডীয় রাস্তা নয়, বরং দীর্ঘদিনের চলাচলের একটি সাধারণ পথ মাত্র। পরে সার্ভেয়ার দিয়ে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।