
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা সবজি বিক্রেতা মীর কালামের (৩৫) পুরো পরিবার এখন একসঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার যে স্বপ্ন ছিল, তা পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।
শনিবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। এর কয়েকদিন আগেই দাফন করা হয়েছিল মীর কালামকে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তর কনকদিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা মাঠে নিহত গৃহবধূ সায়মা বেগম (৩২), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪) এবং একমাত্র ছেলে মুন্না (৭)-এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। পরে মরদেহগুলো পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে ভোরে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন দশক ধরে ফতুল্লায় বসবাস করতেন মীর কালাম। জীবিকার তাগিদে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। সীমিত আয়ের সংসার হলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটছিল তাদের।
গত রবিবার (১০ মে) সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ভাড়া বাসায় হঠাৎ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হয়, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হন।
দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন অ্যাণ্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনইস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান মীর কালাম। পরে একে একে মারা যান তার স্ত্রী সায়মা বেগম ও তিন সন্তান।
নিহতের ভাই রফিক মিয়া বলেন, কালাম অনেক কষ্ট করে সংসার চালাত। পরিবারটাই ছিল তার সব। এখন পুরো পরিবার শেষ হয়ে গেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।