
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী প্রেম কাহিনি। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে সিনথিয়া আক্তার তুবার সঙ্গে ভাষা শেখার অ্যাপ ‘হ্যালোটক’-এ পরিচয় হয় চীনা নাগরিক লিয়নের। পরে সেই পরিচয় গড়ায় নিয়মিত যোগাযোগে, ধীরে ধীরে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক।
তুবার ভাষায়, প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে লিয়ন সত্যিই বাংলাদেশে আসবেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম হয়তো আসবে না। কিন্তু সে সত্যিই চলে এসেছে।’
চলতি মাসের ৮ মে লিয়ন ঢাকায় আসেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তুবার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। বিদেশি অতিথিকে দেখতে সেখানে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।
তুবার বাবা কাঞ্চন হাওলাদার জানান, কয়েকদিন ফোনে যোগাযোগের পর লিয়ন সরাসরি বাড়িতে আসেন। তাকে আপ্যায়ন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয়ে চীন থেকে কেউ বাংলাদেশে এসেছে- এটা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।
তবে সম্পর্কের এই গল্পে আসে ভিন্ন মোড়। প্রেমিকার বয়স কম হওয়ায় আপাতত বিয়ে না করেই লিয়নকে ফিরে যেতে হচ্ছে ঢাকায়। সেখান থেকে তার চীনে ফেরার কথা রয়েছে।
ফিরে যাওয়ার আগে লিয়ন স্থানীয়দের জানান, তিনি আবার বাংলাদেশে আসবেন। তার ভাষায়, ‘আমি আমার বন্ধু তুবার জন্য বাংলাদেশে এসেছি। এখন ফিরে যাচ্ছি, তবে দুই বছর পরে আবার আসব। যদি সে আমাকে বিয়ে করতে চায়, আমি তাকে নিয়ে সংসার করব।’
প্রেম, দূরত্ব আর বাস্তবতার এক অদ্ভুত সমন্বয়ে তৈরি এই ঘটনা এখন নাজিরপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।