নেছারাবাদে ইউনিয়ন পরিষদে মারধরের পর অটোচালকের আত্মহত্যার অভিযোগ

হোম পেজ » পিরোজপুর » নেছারাবাদে ইউনিয়ন পরিষদে মারধরের পর অটোচালকের আত্মহত্যার অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ৩ মার্চ ২০২৬


নেছারাবাদে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে অটোচালকের বিষপানে আত্মহত্যা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের নেছারাবাদে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে মারধর ও অপমানের পর মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩০) নামে এক অটোচালক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে বরিশালের শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সবুজ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়ারী গ্রামের হুমায়ুন কবির খানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোচালক ছিলেন এবং তার পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে।

নিহতের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, ১ মার্চ সকালে গ্রাম চৌকিদার হানিফ মিয়া কথা আছে বলে বাড়ি থেকে ডেকে সবুজকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে চৌকিদার হানিফ ও স্থানীয় দোকানি রুবেল হোসেনসহ কয়েকজন তাকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চুরির লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। বিকেলে স্বজনদের ডেকে জানানো হয়, সবুজ নাকি দুটি দোকান থেকে সিগারেট ও টাকা চুরি করেছে এবং তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছেলে সংসার চালানোর জন্য অটো চালাত। তাকে মেরে চুরির মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। সেই লজ্জা ও অপমান সইতে না পেরে সে বিষ খেয়ে মারা গেল। আমি দোষীদের বিচার চাই।

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, আমার স্বামী চোর নয়। তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে মারধর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। আমাদের পাঁচ বছরের ছেলে জুনায়েদের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম-সে চুরি করেছে কিনা। সে বলেছে, করেনি। মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে।

অভিযুক্ত চৌকিদার হানিফ দাবি করেন, সবুজ গ্রামের দুই দোকানে চুরি করেছে এবং পরিষদে এনে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি ফোন কেটে দেন।

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রাজিবুল হক শানু বলেন, সবুজ পরিষদে এসে চুরির কথা স্বীকার করেছে। উপস্থিত লোকজন কয়েকটি কিল-ঘুষি দিয়েছে। পরে শুনেছি বাড়িতে গিয়ে সে বিষ পান করেছে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, সবুজের লাশ থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দোষী হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরএ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৮:০৭ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ