
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের টপস্ল্যাবের (ছাদ) ঢালাই শাটারিংসহ ধসে পড়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. অহিদুলকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজটির টপস্ল্যাব ঢালাই দেওয়ার পর শাটারিংসহ অর্ধেক অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজের গুণগত মান ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটির দরপত্র পায় ডায়নামিক আইটি শপ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাব-ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করছেন।
গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের কাউকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাইয়ের কাজ করেছেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রিজের টপস্ল্যাবের অর্ধেক শাটারিং ও ঢালাই খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সাব-ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেন, ‘নিচের স্ট্রাকচার মজবুত না করেই ঢালাই দেওয়ায় শাটারিং ভেঙে পড়েছে। শাটারিং ঠিক করে আবার ব্রিজের টপস্ল্যাব ঢালাই করা হবে। হেডমিস্ত্রির অবহেলার কারণে আমাদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘ব্রিজের শাটারিংসহ ঢালাই ধসে পড়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা তদারকিতে গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।