৮ আসামি অধরা গলাচিপায় স্কুলছাত্রী অপহরণের আড়াই মাসেও উদ্ধার হয়নি

হোম » পটুয়াখালী » ৮ আসামি অধরা গলাচিপায় স্কুলছাত্রী অপহরণের আড়াই মাসেও উদ্ধার হয়নি
রবিবার ● ১ মার্চ ২০২৬


গলাচিপায় স্কুলছাত্রী অপহরণের আড়াই মাসেও উদ্ধার হয়নি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অষ্টম শ্রেণির মেধাবী স্কুলছাত্রী মোসা. মারুফা (১৩) অপহরণের প্রায় আড়াই মাস পার হলেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি; মামলায় ৮ জন আসামির কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। রবিবার বিকালে আক্ষেপের সাথে সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলতে গিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন তার মা খালেদা বেগম।
মারুফা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া গ্রামের মোকারেফ হাওলাদার ও খালেদা বেগমের মেয়ে। সে হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দক্ষিণ বাউরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। বৃত্তি পরীক্ষার দুই দিন আগে, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা।
খালেদা বেগম বলেন, আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের রাহাত গাজী দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি জানালে রাহাতের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়। পরে রাহাত গাজীসহ ৭-৮ জন কিশোর মারুফাকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণে রাহাতের বন্ধু কাওসার, আবদুর রহমান, মাইনুলসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে রাহাতের পরিবারের সদস্যরা তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে জানিয়ে উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে সেদিন গভীর রাতে সেখান থেকে মাইক্রোবাসে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। এতে রাহাতের বাবা রিয়াজ গাজী, মা রোকসানা বেগম, চাচা রুবেল গাজী ও মিল্টন গাজীর সহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১৮ ডিসেম্বর গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দিলে সিনিয়র সিভিল জজ মো. রাসেল মজুমদার তা আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার সুপারিশ করেন। ১১ জানুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের হলে বিচারক গলাচিপা থানায় এজাহার গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবুও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি এবং ভিকটিম উদ্ধার হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গলাচিপা থানার উপ-পরিদর্শক মো. সুমন বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে; তারা ভিকটিমকে স্বেচ্ছায় দেওয়ার কথা বললেও এখনো দেয়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, আসামিরা এলাকায় নেই। তাদের গ্রেফতার ও ভিকটিম উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শুকতারা মহিলা সংস্থার পরিচালক মাহফুজা আক্তার বলেন, অপহরণ বা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে; এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত দায়িত্বশীলতা জরুরি।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৭:৫০ ● ১৫৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ