বেনাপোল কাস্টমসকে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

হোম » খুলনা » বেনাপোল কাস্টমসকে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বেনাপোল কাস্টমসকে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

 

বেনাপোল কাস্টমস হাউস সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস উল্লেখ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে কাস্টমসকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও কার্যকর হতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের হয়রানি না করে রাজস্ব আদায় এবং ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ইছামতি সম্মেলন কক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউস সরকারের রাজস্ব আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেনাপোলের রাজস্ব বাড়াতে কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রয়োজন। কাস্টমস সঠিক সেবা দিলে সরকারও এই বন্দরকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে এবং বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

 

তিনি বলেন, এইচএস কোডসংক্রান্ত এমন ছোটখাটো বিষয়, যা মানুষের কোনো উপকারে আসে না, সেগুলো নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। এসব কারণে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে নানা ঘটনায় এই বন্দরের রাজস্ব আয় পিছিয়ে গেছে। এখন কীভাবে তা পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আমদানিকারকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ব্যবসায় উৎসাহিত করা গেলে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেনাপোলে চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি, কাস্টমসের সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেনাপোলকে ঘিরে প্রকাশিত খবরের মধ্যে কিছু সঠিক, কিছু সঠিক নয়। আবার ব্যক্তিগত সুবিধার কারণে কিছু সত্য খবরও চাপা পড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

 

সভায় বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রমের বিদ্যমান সমস্যা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানো এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন ও বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে মতামত দেন।

 

সভায় যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের উন্নয়ন ও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারতসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ ছাড়া বেনাপোল কাস্টম হাউসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বন্দর, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভা শেষে শেখ ফরিদুল ইসলাম বেনাপোল পৌর বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। পরে শার্শার উলাশীতে জিয়ার খাল পরিদর্শন এবং বাগআঁচড়া এলাকায় অসুস্থ নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়াতদের কবর জিয়ারত করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৯:৫২ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ