
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি খাল পুনঃখনন হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হয়েছে, ফলে কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক নতুন ফসলের সম্ভাবনা ও আর্থিক স্বাবলম্বীর স্বপ্ন দেখছেন। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
উপজেলার নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খালগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা একমাত্র ফসল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকতেন। বর্ষাকালে পানির নিষ্কাশনের অভাবে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হতো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া জানান, খালগুলো ডোবা-নালা হয়ে ময়লা আবর্জনা জমত, যা মশা-মাছির জন্ম দিত ও ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগের কারণ হতো। এখন খাল খননের ফলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
তাঁতিপাড়া গ্রামের জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, আগে একবার বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ করতে পারতাম, এখন একাধিক ফসল ফলাতে পারব। এতে বেকারত্ব কমবে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। সরকার যেন এই প্রকল্প অব্যাহত রাখে।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু জানান, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে বিপ্লব হবে; এক ফসলি জমি ২-৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে।
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন জানালেন, খালগুলো যথাযথভাবে পুনঃখনন করা হয়েছে, যা কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, পানি সেচ সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ফলে কৃষকরা এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করতে পারবে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবে।