
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। আওয়ামী লীগ দুর্গখ্যাত বরগুনা-১ আসনে (আমতলী-বরগুনা সদর-তালতলী) তুমুলভাবে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের কাছে টানতে তারা জোর প্রচার চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বিএনপির মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, ১১ দলীয় ঐক্যের অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন। তিন উপজেলায় মোট ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে আমতলীতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮, তালতলীতে ৮৭ হাজার ২০ এবং বরগুনা সদরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন ভোটার।
এ আসনের চার প্রার্থীই বরগুনা সদর উপজেলার হওয়ায় পায়রা নদীর পূর্বপাড়ের আমতলী ও তালতলীর ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ ভোটারের মন জয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তরুণ ভোটার রয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৮ জন। তাদের সমর্থন পেতে নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অলিউল্লাহ সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ দুর্গখ্যাত এ আসনে ১৯৭১ সালের পর থেকে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারেননি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অলিউল্লাহর বাবা প্রয়াত মাওলানা আব্দুর রশিদ চারবার দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরাজিত হন। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন- উভয় দলের প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নারী, তরুণ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর প্রতি ঝুঁকছেন। তবে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে অনীহা রয়েছে অনেকের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে প্রকাশ্যে ২৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে প্রকাশ্যে ও গোপনে ৩০ জন সমর্থন জানিয়েছেন। প্রকাশ্য সমর্থনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থক বলেন, বিএনপির নেতারা ডাকলে জনসভা, পথসভা ও মিছিলে যাচ্ছি। তবে ভোট দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেই।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের শাখাওয়াত ও রুবেল সাগরকন্যাকে বলেন, আওয়ামী লীগ’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় ভোট দিতে কেন্দ্রে না যাওয়ার চিন্তা ছিল। কিন্তু তাতে রাজনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের আক্তার হোসেন ও জাহাঙ্গীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।
হলদিয়া ইউনিয়নের ভোটার শিবলী শরীফ, এরশাদুল রাঢ়ী, দুলাল প্যাদা ও জাকারিয়া ফকির বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীকেই সমর্থন করবেন।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার বইছে। আশা করি শতভাগ বিজয় অর্জন করব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, মানুষ প্রতারণা ও হয়রানির রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। হাতপাখার বিজয় সুনিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।