
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীতে একটি তুলার মিল অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। এতে মিলের মালিক বশির খাঁনের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। বারবার আগুন লাগার ঘটনায় লোকালয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং মিলটি অপসারণের দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া কটন মিলস’-এ।
আমতলী ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত কারণে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতেই মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো মিলটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে মিলের বিভিন্ন মেশিন ও মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। মিল মালিক বশির খাঁন জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার অন্তত ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম মাসুদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত সাত বছরে একাধিকবার ওই মিলে আগুন লেগেছে। এতে আশপাশের বসবাসরত পরিবারগুলো সবসময় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী গোলাম মোস্তফা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে লোকালয়ের মধ্যে তুলার মিল স্থাপনের কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনায় তারা বেশ আতঙ্কে রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
মিলের মেশিন চালক ফাহিমা বেগম বলেন, ঘটনার দিন মিল বন্ধ থাকায় সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পূর্বেও বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, এবারও একই কারণে অগ্নিকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. গোলাম মোস্তফা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মিল মালিক আবেদন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।