
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা
শীতের ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে গভীর রাতে দুইটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এদের নাম পরিচয় এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পর চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার হামিদচর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী যাত্রীবাহী লঞ্চ এম.ভি জাকির সম্রাট-৩ ঘন কুয়াশার মধ্যে হাইমচর এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ঢাকা থেকে বিএনপির কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারী যাত্রী নিয়ে বরিশালগামী এম.ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি দিক নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চে।
জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চে ভোলা থেকে আসা যাত্রী রফিক হোসেন (৫০) বলেন, কুয়াশা খুব বেশি ছিল। আমাদের লঞ্চটি বেশ ধীরেই চলছিল। হঠাৎ করে দেখি অ্যাডভেঞ্চার-৯ সোজা এসে আমাদের লঞ্চে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর তারা কোনো সহায়তা না করেই দ্রুত সরে পড়ে। একই লঞ্চের যাত্রী শাহিনা বেগম (৩৮) বলেন, ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে চিৎকার, অনেকে নদীতে পড়ে যাচ্ছিল। আমার চোখের সামনে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। একই লঞ্চের যাত্রী রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ঘন কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডভেঞ্চার-৯ অনেক দ্রুত গতিতে চলছিল। ধাক্কার পর আমাদের লঞ্চ ডুবো-ডুবো হয়ে যায়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ফলে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
সংঘর্ষের পর জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে। এ সময় ভোলা থেকে ঢাকাগামী অপর একটি লঞ্চ এম.ভি কর্ণফুলী-৯ দ্রুত এগিয়ে এসে মানবিকতার পরিচয় দেয়। লঞ্চটির স্টাফরা তাৎক্ষণিকভাবে বহু যাত্রীকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারী এম.ভি কর্ষফুলী-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার আল-আমীন দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যার সত্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাজ হচ্ছে আহত মানুষগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।
সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ ও গুরুতর আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে না পারলেও জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের যাত্রী নজিবুল হকের মতে, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।