সাগরকন্যা বিনোদন ডেস্ক
চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছরের ঈদুল আজহায় অন্য কোনো সিনেমায় যুক্ত হওয়ার কথা না থাকলেও একই ঈদে আরও দুটি সিনেমায় কাজ করছেন অভিনেতা শরিফুল রাজ। এ অভিযোগে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তির শর্ত ভেঙে অন্য সিনেমায় যুক্ত হওয়ায় তাদের ‘ঠিকানা’ সিনেমাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
গত ২৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ব্যারিস্টার সজিব মাহমুদ আলম শরিফুল রাজকে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
‘বরবাদ’ সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের অভিযোগ, আগামী বছরের ঈদুল আজহায় মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে ‘ঠিকানা’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন রাজ। এ জন্য চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থও নিয়েছেন তিনি। শর্ত ছিল, ওই ঈদে মুক্তি পাবে এমন অন্য কোনো সিনেমায় যুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ সিনেমায় যুক্ত হন রাজ। সেটিও ঈদুল আজহায় মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর আগেও গত ২ সেপ্টেম্বর রাজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তখন রাজ ও তাঁর ম্যানেজার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটির শুটিংয়ের শিডিউল দেননি অভিনেতা। এবারও নির্ধারিত শিডিউল নিশ্চিত না করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে সম্প্রতি আরও একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শরিফুল রাজ। ওই সিনেমার নির্মাতাও জানিয়েছেন, সেটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে। একই ঈদে রাজের তিনটি সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের কর্ণধার শাহরীন আক্তার সুমি।
তিনি বলেন, ‘শরিফুল রাজের সঙ্গে চুক্তিই ছিল, ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে, এমন কোনো সিনেমায় আর যুক্ত হতে পারবেন না। তিন মাস সময় নিয়ে জেনে-বুঝে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ জন্য তাঁকে এক-চতুর্থাংশ সাইনিং মানিও দেওয়া হয়েছে। এরপর দেখলাম, তানিম নূরের একটি সিনেমায় কাজ করছেন, সেটিও ঈদে মুক্তি পাবে। গত পরশু শুনলাম, তিনি আরও একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এক ঈদে যদি একজন নায়কের তিনটি সিনেমা মুক্তি পায়, তাহলে আমার সিনেমা তো ক্ষতির মুখে পড়বে।’
শাহরীন আক্তার সুমি আরও জানান, ‘ঠিকানা’ সিনেমার গল্প শরিফুল রাজকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে। তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিনেতার কথা ভাবেননি নির্মাতারা। ইতোমধ্যে সিনেমাটির পেছনে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু রাজ শুটিংয়ের শিডিউল দিচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শরিফুল রাজের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।