
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর দুমকিতে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মো. খলিল জোমাদ্দারকে মারধর করে ২১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তালতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি জনতা কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম ইমরান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাওলাদার। আহত খলিল জোমাদ্দার চরবয়ড়া গ্রামের কঞ্চন জোমাদ্দারের ছেলে।
খলিল জোমাদ্দারের অভিযোগ, শনিবার তালতলী বাজারে গেলে ছাত্রদল নেতা ইমরান ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিব হাওলাদার ওরফে কসাই রাকিবসহ ৭ থেকে ৮ জন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে মারধর করে পকেটে থাকা ২১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। চোরাই গরু জবাই করে বিক্রির সঙ্গেও তাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খলিল জোমাদ্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা ও ব্যবসায়ী হয়েও প্রকাশ্যে হামলার শিকার হতে হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় দুমকি থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাকিব হাওলাদার। মুঠোফোনে তিনি বলেন, তাঁরা ড্রেজারের পাইপলাইন টানার কাজ করছিলেন। এ সময় খলিল জোমাদ্দার বাধা দেওয়ায় তাঁরা সেখানে যান। তবে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সুমন শরীফ বলেন, সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। খোঁজখবর নিয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে অবহিত করবেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।