সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার বাবা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বরগুনার শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মোস্তাফা শাহরিয়ার মামলাটি আমলে নিয়ে নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
মামলার আসামিরা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার আজিজাবাদ গ্রামের মন্নান হাওলাদারের ছেলে মো. নয়ন (২১), তার মামা মো. শুকুর (৩৫) ও নানা মো. পনু খাঁ (৫০)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নয়ন তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নয়নের মামা ও নানাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর বাবা।
বাদীর দাবি, তিনি পেশায় মৎস্যজীবী। ইলিশ ধরতে সাগরে যাওয়ার সুযোগে নয়ন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেও কোনো ফল পাননি তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে স্কুলে যাচ্ছিল ওই ছাত্রী। আসামির বাড়ির সামনে পৌঁছালে নয়ন আরেক যুবককে নিয়ে মোটরসাইকেলে অপেক্ষা করছিলেন। ছাত্রী পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নয়ন তার হাত ধরে মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার করলে তার গলায় চাকু ধরে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা।
ঘটনাটি ছাত্রীর চাচা খোকন দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করেন। পরে খোকন গিয়ে নয়নের মামা ও নানাকে বিষয়টি জানান। তারা ছাত্রী ফিরে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রীর বাবা জানান, ৭ অক্টোবর সাগর থেকে বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ৯ অক্টোবর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে মেয়ে জানায়, নয়ন তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছেন। মেয়েটি তার মাকেও ফোনে আটকে রেখে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, পরে নয়ন ফোনটি নিয়ে তাকে বলেন, তার মেয়ে নয়নের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া নয়নের মামা ও নানা মেয়েটির অবস্থান সম্পর্কে জানেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে নয়নের মামা ও নানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নয়নের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।