মঠবাড়িয়ার মাদ্রাসায় চার শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » মঠবাড়িয়ার মাদ্রাসায় চার শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ
সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬


 

মঠবাড়িয়ার মাদ্রাসায় চার শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)

 

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বেতন-ভাতা উত্তোলনে জাল স্বাক্ষর, নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. জাকারিয়া। অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২১ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের বেশি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মিত শিক্ষকেরা বেতন-ভাতা উত্তোলন বা বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানে এসে আগের দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করা হয়েছে। বেতন-ভাতার বিল তৈরিতেও জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

 

সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. জাকারিয়ার অভিযোগ, চার শিক্ষক জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করছেন। তাঁদের একজন মো. মহিবুল্লাহ ২০১৪ সালে বিএ পদের বিপরীতে সাধারণ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালের মার্চে প্রভাষক হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহণ শুরু করেন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশ ছাড়াই পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ইবতেদায়ি প্রধান মো. তৈবুর রহমানের ফাজিল সনদ নেই বলে দাবি করেছেন মাওলানা জাকারিয়া। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালে তৈবুর রহমানকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, তাঁর নিবন্ধনের যোগ্যতা দিয়ে এ পদে নিয়োগের সুযোগ নেই।

 

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মারুফ ২০১৪ সালে জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এবং এনটিআরসিএর সুপারিশ ছাড়াই চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধেও ২০০৪ সালে জাল নিবন্ধন সনদ দিয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তাঁর দাবি, আলমগীর ২০২২ সালের মার্চ থেকে বেতন-ভাতা পেতে শুরু করেন।

 

মাওলানা জাকারিয়ার আরও অভিযোগ, তাঁকে এক দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মো. মহিবুল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একজন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারীকে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাওলানা মো. রুহুল আমিন অনিয়মিত শিক্ষকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে তাঁদের বেতন-ভাতার বিল তৈরি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও করেন জাকারিয়া।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিবুল্লাহ বলেন, তাঁর সব কাগজপত্র ঠিক আছে। তবে তিনি কাগজপত্র দেখাতে রাজি হননি। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

 

মো. আলমগীর হোসেন প্রথমে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। মো. তৈবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মারুফ অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন বা নিয়োগসংক্রান্ত চিঠি দেখাতে পারেননি তিনি। অনিয়মিত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিল তৈরি ও প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।

 

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতার বিল তৈরি করেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি। তাঁরা বিল তৈরি করে দিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। এ ক্ষেত্রে দায় তাঁদের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক তাপস কুমার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে হতাশা প্রকাশ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রাব্বি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০০:৩৩ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ