
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)
যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত চলছে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
এবার শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলের ৩২টি ছোট-বড় মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমাশিল্পী ও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর ব্যস্ততা।
প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। কোথাও প্রতিমায় মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় রং ও তুলির আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা।
বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবদেবীর অবয়ব। এখন চলছে রং করার প্রাথমিক কাজ।
শিল্পীরা জানান, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও রোদ ওঠায় কাজের গতি বেড়েছে। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচও বেড়েছে।
প্রতিমাশিল্পী বাসুদেব ভাস্কর বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে আগের চেয়ে লাভ কমে গেছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, এবার শার্শা উপজেলায় ৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় আটটি এবং শার্শা থানার আওতায় ২৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলো। দুর্গোৎসব ঘিরে সীমান্তবর্তী এ জনপদে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
পূজা উদ্যাপন কল্যাণ ফান্ডের সভাপতি কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা সার্বিক সহযোগিতাও করছেন।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, উপজেলা পূজা পরিষদ ও প্রতিটি পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। পূজা উদ্যাপনে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নজরদারি করছে।