
সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় দলীয় সাংসদদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসার পর তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের পাঁচ সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকেও আটক করে পুলিশ।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে বাধা দেয় বলে অভিযোগ।
বাইরে বের হতে না পেরে বাসভবনের সামনের সড়কে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে দলীয় সাংসদদের নিয়ে অবস্থান শুরু করেন মমতা। পরে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাসভবন থেকে বের হতে বাধা দেয় পুলিশ। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পেরে তিনি দলীয় সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থান নেন। পরে তাঁদের আটক করা হয়।
আটকের আগে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হয়েছিলাম। জেন-জি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু সিজেপির ছেলেদেরও আটক করা হয়েছে, বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা সবসময় ছাত্র ও যুব সমাজের পাশে আছি।’
যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে মমতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে দীর্ঘক্ষণ শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও পুলিশ একই আচরণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয়নকে দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল।