গলাচিপা হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, একই ওয়ার্ডে হাম-ডেঙ্গুর রোগী

হোম » সর্বশেষ » গলাচিপা হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, একই ওয়ার্ডে হাম-ডেঙ্গুর রোগী
বৃহস্পতিবার ● ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

গলাচিপা হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, একই ওয়ার্ডে হাম-ডেঙ্গুর রোগী

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ জন রোগীর ধারণক্ষমতার হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৪৮ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের আলাদা রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে এক রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অন্য সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন হাম আক্রান্ত ২১ জন ও ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন।

 

হাসপাতালের ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র ভিড়। অতিরিক্ত রোগীদের অনেককে করিডোর ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সাধারণ রোগী ও সংক্রামক রোগীদের পৃথক রাখার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বা বেডও সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন শিশুদের স্বজনরা। একই ইউনিটে হাম আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা।

 

গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, ‘চার দিন আগে আমার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু আমার মেয়ের পাশের বেডেই একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি দুই ধরনের রোগী থাকায় আমি আমার মেয়েকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

 

সারামনির পাশের বেডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। কিন্তু আমার চারপাশে হামের রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতালের নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি থাকতে আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু চিকিৎসা তো নিতে হবে।’

 

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ রোগী ভর্তি আছে। আমাদের প্রতিদিনই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

 

তিনি বলেন, ‘হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি বেডের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তারপরও যতটুকু সম্ভব, আমাদের সেবা অব্যাহত রাখছি।’

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৬:৫৭ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ