
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘ঝুঁকি যোগাযোগ ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা তথ্য অফিসার সেলিম মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সোহেল হাফিজ ও ইউনিসেফের প্রতিনিধি মো. আব্দুল জলিল। এ ছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত বছরও বরগুনা ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট হিসেবে আলোচনায় ছিল। চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং ডেঙ্গু সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিত্যক্ত পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, দেশে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ সময়ে বরগুনায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি। এখনই সমন্বিতভাবে কাজ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।