
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সরকারি আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমানের পিতার বিরুদ্ধে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পিতা আলহাজ মোবারক আলী গাজীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ‘জাল কাগজে জমি দখলের চেষ্টা’ সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সরকারি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. হারুন অর রশীদের নাম ব্যবহার করেও বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।
অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমানের দাবি, মহারাজপুর এলাকার এসএ রেকর্ডীয় মালিক সোনাই মিস্ত্রির ওয়ারিশদের কাছ থেকে তাঁর পিতা ১৯৭৬ সালে দুটি দলিলের মাধ্যমে ১ দশমিক ৩৩ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে ওই জমি তাঁদের ভোগদখলে ছিল। বিভিন্ন জরিপেও তাঁদের নামে রেকর্ড ও পর্চা প্রস্তুত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩-২৪ সালে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তাঁর পিতা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলায় তদন্ত ও সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালতের আদেশে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ দেওয়ানি আদালতে ১৫২/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় প্রতিপক্ষ পরাজিত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষ এমআর ২৬৭/২৫ নম্বর মামলাও দায়ের করে এবং ওই মামলাতেও তারা পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেন অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জাল-জালিয়াতি’সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।
বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ করেন অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান।