
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাইনুল হাজারি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতার মাইনুলের পরিবারের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, স্কুলছাত্রীকে অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বের হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া নাদিয়া। পথে উত্তর আইচা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছালে মাইনুল হাজারি ও তাঁর সহযোগীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে তার গতিরোধ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে সুমাইয়া নাদিয়াকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ছাত্রীর চাচা, শশীভূষণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, বাদী হয়ে শশীভূষণ থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে।
তবে মাইনুলের পরিবারের সদস্যরা অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, মাইনুল এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। রসুলপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং ও বিরোধের কারণে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয় করা ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই এ মামলা করা হয়েছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদ বলেন, স্কুলছাত্রী অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মাইনুল হাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে কোনো পারিবারিক বা রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার মাইনুল হাজারিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।