
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহারাজপুর গ্রামের মৃত উজির আলীর ছেলে মো. আবুল হোসেন গাজী। এ সময় মো. আশরাফ আলী, মো. রফিকুল ইসলাম গাজীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন গাজী বলেন, মহারাজপুর মৌজার কয়েকটি খতিয়ানের জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় ও ওয়ারিশসূত্রে ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতক জমি রেকর্ডীয় মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। পরে আরও প্রায় ৩৭ শতক জমি ক্রয় করে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি মঠবাড়ি গ্রামের মোবারক আলী গাজী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ জন্য জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে একটি খতিয়ানের প্রায় ১ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে ‘ভুয়া রেকর্ড’ প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে প্রতিপক্ষের দাবির পক্ষে অন্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে একটি ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে ভুল বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে সেটি সরিয়ে নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ। জমি নিয়ে বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি জাল কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে জমির কাগজপত্র যাচাই, দখল রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।